1. live@www.dailyekusherbangla.online : দৈনিক একুশের বাংলা : দৈনিক একুশের বাংলা
  2. info@www.dailyekusherbangla.online : দৈনিক একুশের বাংলা :
রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন : আস্থার সংকটে গণতন্ত্র, প্রশ্নের মুখে ভোটাধিকার মুরাদনগরে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শ্রেনি শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেন যারা বোয়ালখালী গোমদন্ডীপাইলট স্কুলের ১ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত নগরকান্দায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বছরজুড়ে বালু উত্তোলন চট্টগ্রাম মাল্টিমিডিয়া স্কুলে বার্ষিক ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হাজী মোস্তফা বেগম ফাউন্ডেশন স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্টিত পাঁচবিবিতে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত পাঁচবিবিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভা গাছা থানা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন: সভাপতি আনিসুল, সম্পাদক সোহেল কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে পীরজাদা এমদাদুল হকের গণসংযোগ

কুয়াশার চাদরে ঢাকা জনপথ, শীতের তীব্রতায় স্থবির স্বাভাবিক জীবন

আওরঙ্গজেব কামালঃ
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

পৌষের মাঝামাঝিতে এসে শীত তার আসল রূপ দেখাতে শুরু করেছে। কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে পুরো দেশ। গত কয়েক দিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে জনজীবন, বিপর্যস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক কর্মযজ্ঞ। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হলেও এর প্রভাব পড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই। তার মধ্যে দেশের রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে । বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের অন্তত নয়টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এসব জেলা হলো— রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা রূপ নিতে পারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে। এদিকে কুয়াশায় থমকে যাচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। শীতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশার ভোগান্তি। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে। এর ফলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগে সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিঘ্ন। ঘন কুয়াশার কারণে জেদ্দা থেকে আগত একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি। কুয়াশায় রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটটি কলকাতায় অবতরণ করেছে।সম্প্রতি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইট কুয়াশার কারণে ডাইভার্ট করতে হয়েছে। সড়কে কমে যাচ্ছে দৃশ্যমানতা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে নদী অববাহিকা এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় ভোর ও সকালের দিকে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। হেডলাইট জ্বালিয়েও অনেক সময় পথ দেখা দায় হয়ে উঠছে চালকদের জন্য। এদিকে শীত বাড়ার পূর্বাভাস, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনে রাত ও দিনের তাপমাত্রা খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও ৬ জানুয়ারি থেকে আবারও শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কোনো কোনো জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৭–৮ ডিগ্রির নিচে নামার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে যশোরে টানা কয়েক দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। একাধিকবার সেখানে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা শীতের তীব্রতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। অপরদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ। এ বিষয়ে তরকারী ব্যবসায়ী হাবি জানাই এত বেশী শীত ভোরে বাসা থেকে বাহির হওয়া যায়না। কাচা মাল সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ঠ হচ্ছে। এছাড়া ক্রেতার সংখ্যা খুব কম, মালের দাম অনেক বেশী। শৈত্যপ্রবাহের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে সমাজের নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। দিনমজুর, রিকশাচালক, পথশ্রমিক, ভাসমান মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর জন্য এই শীত রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আশুলিয়ার রিকসা চালক আঃ আজিজ বলেন,রাস্তায় যাত্রী নেই ঘন কুয়াশায় কিছু দেখা যায়না। গাড়ী নিয়ে বাহির হলে ভাড়ার টাকা উঠেনা। খুব বিপদের মধ্যে রহেছি। তিনি বলেন রাস্তায় দেখি পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই রাতে খোলা আকাশের নিচে কাঁপতে কাঁপতে সময় পার করছেন। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় কথা হয়,বাংলাদেশ ভূমীহীন ও গৃহহীন হাউজিং লিঃ নামের সাধারন সম্পাদক মোঃ আজাহার আলীর সাথে । তিনি বলেন আমি কিছু নতুন ও কিছু পুরাতন কাপড় পথ শিশু ও অসহায় মানুষের মাঝে আমাদের সভাপতির সাথে নিয়ে বিতারন করছি। তবে এটা যথেষ্ট নহে। আমি মনে করি সমাজের অর্থশালীদের নিজ নিজ উদ্যেগে অসহায় শীতার্থ মানুষের পাশে দাড়াতে হবে। এদিকে ভুক্তভোগীরা বলছেন,শীতের কারণে শ্রমঘণ্টা কমে যাচ্ছে, কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে এসব মানুষের জীবনে। এই বাস্তবতায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। ঢাকায় শীতের সঙ্গে বাড়ছে বায়ুদূষণ। যেটা দেশের জনসাধারনের জন্য হুমকীর কারন হবে।শীতের আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় দূষণ আবারও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, সম্প্রতি ঢাকার বাতাসকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার একিউআই স্কোর ১৪০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানীর অবস্থান ছিল শীর্ষ কুড়ির মধ্যে। শীতের এই সময়ে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আমি মনে করি সামনে আরও শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রয়োজন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি, আবার এক-দুটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার। অর্থাৎ জানুয়ারির পুরোটা সময়ই দেশকে শীতের দাপটের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। আমার মনে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। কুয়াশাকবলিত এলাকায় সড়ক ও নৌপথে সতর্কতা জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে হবে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দ্রুত নিতে হবে। শীত প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হলেও এর প্রভাব যেন মানুষের জীবনে মানবিক বিপর্যয় ডেকে না আনে—সেদিকে এখনই নজর দেওয়া জরুরি। কারণ শৈত্যপ্রবাহ শুধু তাপমাত্রা কমায় না, এটি সমাজের দুর্বল মানুষগুলোর বাস্তবতাকেও নগ্ন করে তোলে।
লেখক ও গবেষকঃ
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট