
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৬ নং টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের টিওরমারী গ্রামে দীর্ঘ সাত বছর ধরে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বালু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গ্রামের ভেতরে দিয়ে ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচলের ফলে ঘরবাড়ি ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন হওয়া, আবাদি জমি নষ্ট এবং চলাচলের রাস্তাটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবাদ করায় দুই যুবককে পিটিয়ে আহত করার পর ট্রাক্টর দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে।
সাত বছরের দুর্ভোগ ও পরিবেশ বিপর্যয়
স্থানীয়দের অভিযোগ, করতোয়া নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে দিনরাত ট্রাক্টর ও ট্রলি চালানো হচ্ছে। এর ফলে বাতাসে এত পরিমাণ ধুলোবালি ওড়ে যে, গ্রামবাসী স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। রাস্তার দুই ধারের আবাদি জমিতে ধুলোর আস্তরণ পড়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ভারী যান চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা ও আধা-পাকা রাস্তাটি বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান বা অন্যান্য ফসল ভ্যান-গাড়িতে করে বাড়িতে নিতে গেলে প্রায়ই গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবাদ করায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি
সম্প্রতি টিওরমারী গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে বালুর গাড়ি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওই গ্রামের মৃত আহাদ আলী মন্ডলের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক গায়ের জোরে গাড়ি চালানোর ঘোষণা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়েকদিন আগে গ্রামবাসী গাড়ি আটকালে রাজ্জাকের নির্দেশে চালক ও হেলপাররা বালু তোলার বেলচা দিয়ে রুবেল ও আনোয়ার নামে দুই যুবককে বেধড়ক মারপিট করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ
গ্রামবাসীর আপত্তির মুখে রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা সর্বশেষ একটি বালুভর্তি গাড়ি রাস্তার মাঝখানে ফেলে রেখে চলে যান। এতে করে গত কয়েকদিন ধরে ওই রাস্তা দিয়ে অটোভ্যান বা জরুরি কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। গ্রামবাসী রাজ্জাককে বারবার গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না। উল্টো গ্রামবাসী আশঙ্কায় আছেন, রাজ্জাক নিজে গাড়ির পার্টস খুলে নিয়ে গ্রামবাসীকে চুরির মামলায় ফাঁসাতে পারেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে
গ্রামবাসীর প্রশ্ন, কার শক্তিতে এই বালু দস্যুরা বছরের পর বছর গ্রামের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে? তারা অবিলম্বে এই অবৈধ বালু পরিবহন বন্ধ এবং রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সেই সাথে গত কয়েকদিনের হামলার বিচার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গ্রামবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।