
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এ নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শ্রেনি শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার এর স্বাক্ষরিত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সময়োপযোগী প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় তিনটি ক্যাটাগরিতে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) শ্রেষ্ঠ শ্রেনি শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। এসব অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁদের এই সম্মাননা প্রদান।
শিক্ষা সপ্তাহে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শ্রেনি শিক্ষকরা হলেন কামাল্লা মদিনাতুল উলুম (এম এ) মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, হায়দরাবাদ হাজী ইয়াকুব আলী ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু নাছের ও কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুর রহমান এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা হলেন কোরবানপুর গোলাম মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. জে. নাইয়ুম ভূঁইয়া, অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী ও শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মাননা প্রাপ্ত শিক্ষকগণ তাঁদের কর্মক্ষেত্রে গুণগত শিক্ষা বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে আরো আন্তরিক ও উদ্যোগী হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করেন, এই শিক্ষকদের দূরদর্শী নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখছে। তাঁদের এই অর্জন নতুন প্রজন্মের শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সম্মাননা প্রাপ্ত শ্রেনি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই স্বীকৃতি তাঁদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁরা আধুনিক, মানবিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।