
ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে সংঘটিত একটি কথিত অপহরণ মামলাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে নিরীহ দুই যুবক—মোঃ আলাউদ্দিন হাওলাদার ও মোঃ পারভেজের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সরাসরি দণ্ডবিধির গুরুতর অপব্যবহারের শামিল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের আইয়ুব আলী পাটোয়ারীর ছেলে মোঃ সবুজ পাটোয়ারীকে অপহরণ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে—এমন সম্পূর্ণ অসত্য অভিযোগে দৌলতখান থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার পর যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়, যা অভিযুক্তদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং তাদের পরিবারকে চরম মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পর তথাকথিত অপহৃত ব্যক্তি মোঃ সবুজ পাটোয়ারীর অবস্থান নিশ্চিত হয় ওমান প্রবাসে। সেখানে সরাসরি সাক্ষাৎ ও পরিবারের সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, তিনি শুরু থেকেই ওমানে অবস্থান করছেন এবং সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছেন।
ভিডিও কলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,আমি ওমানে ভালো আছি। আমাকে কেউ অপহরণ বা পাচার করেনি। আমার নাম ব্যবহার করে কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা সম্পূর্ণ অন্যায়। দয়া করে দ্রুত মামলাটি তুলে নিন এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করুন।
আইনজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা (মিথ্যা মামলা রুজু), ১৮২ ধারা (মিথ্যা তথ্য প্রদান) এবং ৫০০ ধারার (মানহানি) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মামলা বহাল রাখা হলে তা বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অভিযুক্ত মোঃ আলাউদ্দিন হাওলাদার ও মোঃ পারভেজের পরিবার জানিয়েছেন, এ মিথ্যা মামলার কারণে তারা সামাজিকভাবে অপদস্থ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আইনগত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। তারা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারসহ মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা বিডি মেঘনা নিউজ 24 কে জানান ব্যক্তিগত শত্রুতা বা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করা একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুয়া মামলা প্রত্যাহার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি—প্রবাসীর ভিডিও ও সরাসরি বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের দৃষ্টান্ত বন্ধ হয়।