
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) সংসদীয় আসনে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার বিকেলে ভাঙ্গার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে “ভাঙ্গার সন্তান”কে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করার আহ্বানে সভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী **মাওলানা মোঃ সরোয়ার হোসেন**। তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
বক্তব্যের শুরুতেই নিজেকে “ভাঙ্গার সন্তান” হিসেবে পরিচয় দিয়ে জনগণের সাথে তার গভীর আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেন মাওলানা সরোয়ার হোসেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন:
”আমি এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের চিরসাথী। শত শত জানাজায় আমি ইমামতি করেছি, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছি। এই মাটির প্রতি আমার দাবি অন্য সবার চেয়ে বেশি।”
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের সময় অনেকে মৌসুমি টুপি পরে ভোট চাইতে আসলেও, তার আদর্শ ও জীবনবোধ সব সময় একই রকম ছিল এবং থাকবে।
বিশেষ বক্তা অ্যাডভোকেট ইকরাম হোসেন সিকদার তার বক্তব্যে বলেন, এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় প্রতিনিধির বিকল্প নেই। অতীতে অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু এলাকাবাসীর আপনজন হয়ে পাশে থাকেননি। তাই আগামী নির্বাচনে **’দাঁড়িপাল্লা’** প্রতীকে মাওলানা মোঃ সরোয়ার হোসেনকে জয়যুক্ত করার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়ন শাখা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন হাফিজ মুহাঃ নূরুল হুদা এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ আরমান শরীফ। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
– মুহাঃ জালাল উদ্দীন ও নূর মোহাম্মদ শরীফ (মোল্লা)
– খন্দকার মোঃ শহীদুল ইসলাম বাবলু ও মোঃ ইনছানুর রহমান
– মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও মোঃ ফিরোজ কবির
– ডাঃ ইকরাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভার শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি “নারায়ে তাকবীর” ও “দাঁড়িপাল্লা” স্লোগানের মাধ্যমে উপস্থিত জনতার মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেন। এরপর দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং নির্বাচনী সাফল্য কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের জন্য খিচুড়ি ভোজনের (তবারক) আয়োজন করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের এই বিশাল জনসমাগম আগামী নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।