ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী স্বপন মোল্লার (৩৮) ওপর প্রভাবশালী মহলের নৃশংস হামলার ঘটনা এখন টক অব দ্য টাউন। দফায় দফায় হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণের পথে থাকা এই তরুণ ব্যবসায়ী বর্তমানে যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে এক ভিডিও বার্তায় নিজের ওপর হওয়া নারকীয় নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে প্রশাসনের কাছে জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় স্বপন মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, হামলাকারীরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার সুনিপুণ পরিকল্পনা করেছিল। তিনি বলেন, "তারা প্রায় ৮ জন মিলে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। চিৎকার করতে না পেরে আমার মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেওয়া হয় এবং মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয় যাতে কেউ চিনতে না পারে। এরপর নির্জন একটি চকে নিয়ে আমাকে অমানুষিকভাবে মারধর করা হয়। তারা ভেবেছিল আমি মারা গেছি, তাই নিথর দেহটি ফেলে রেখে চলে যায়।"
স্বপন মোল্লা এই বর্বরোচিত হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ফয়সাল মুন্সীর নাম উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, এই হামলায় সরাসরি অংশ নেয় মিজান, বাবু এবং পার্শ্ববর্তী ঘোষগ্রামের রনিসহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। ভুক্তভোগী আরও জানান, এর আগেও একাধিকবার তার ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি থানায় অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে কোনো কার্যকর বিচার পাননি, যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
ঘটনার দিন রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও স্বপন এখন চলনশক্তিহীন হওয়ার পথে। তার সারা শরীর ও মুখে নির্যাতনের ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন এখনো স্পষ্ট।
বর্তমানে স্বপন মোল্লা ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে এবং মুখ বন্ধ রাখতে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল। বিশেষ করে ভাঙ্গা উপজেলার বিশিষ্ট সাংবাদিক মোঃ আলী আকবর হোসেনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এই ঘটনার আড়ালে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ মনে করে, এ ধরনের অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়া সমাজের জন্য অশনি সংকেত।
ভাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনার বেশ কিছু দিন পার হয়ে গেলেও মূল আসামিদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে না পারায় জনমনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ফয়সাল মুন্সীসহ সকল অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।