কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের পীরগঞ্জের তরুণ শাহীন সজীব (২১)। বড় কোনো পুঁজি ছাড়াই শুধুমাত্র ধৈর্য আর মেধা খাটিয়ে আজ তিনি একজন সফল বহুমুখী উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন।
শাহীন সজীবের বাবা সেরাজুল ইসলাম মূলত একজন মেশিনারিজ পার্টস ব্যবসায়ী ছিলেন। বাবার সেই ব্যবসার পাশাপাশি তারা একটি ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। তবে করোনা মহামারির সময় এক ভয়াবহ মড়কে খামারের প্রায় ৩ হাজার মুরগি মারা যায়। এতে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে তাদের সাজানো ব্যবসা। লোকসানের ধাক্কায় মেশিনারিজের দোকান এবং খামার—দুই-ই তখন বন্ধ হয়ে যায়।
পরিবারের এমন চরম দুর্দিনে হাল ধরেন ছোট ছেলে শাহীন সজীব। পড়াশোনা চলাকালীন সময়েই তিনি সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর। বাবার সম্মতিতে তিনি একটি চায়ের দোকান চালু করেন। সেই ক্ষুদ্র আয়ের টাকা জমিয়ে পুনরায় শুরু করেন মুরগির খামার। এরপর বাবা ও বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় খালাশপীর বন্দরে জমি কিনে একটি দুই তলা ভবন নির্মাণ করেন।
ভবন নির্মাণের পর পুঁজি সংকটে পড়লে সজীব দমে যাননি। ব্যাংক থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে পুনরায় শুরু করেন তাদের পারিবারিক পেশা 'মেশিনারিজ পার্টস' এর ব্যবসা। গত তিন বছরে কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি অক্লান্ত পরিশ্রমে সেই ২ লক্ষ টাকার পুঁজিতে আজ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মালামাল যুক্ত করেছেন তিনি। ছোট বোন সম্পার নাম অনুসারে সজীব তার প্রতিষ্ঠানের নাম রেখেছেন 'সম্পা মেশিনারিজ'।
সজীবের সাফল্যের পরিধি এখন আরও বিস্তৃত। পোল্ট্রি খামারের পাশাপাশি তিনি এখন একজন সফল গো-খামারিও। সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে নতুন করে একটি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি, যেখানে বর্তমানে ১০টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে। মুরগির খামার এবং গরুর খামারের এই সমন্বিত উদ্যোগ তার খামার ব্যবসার পরিধিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে সজীবের তত্ত্বাবধানে একে একে ৪টি মুরগির খামার এবং ১টি গরুর খামার পরিচালিত হচ্ছে।
শাহীন সজীব বর্তমানে খালাশপীর কারিগরি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি চাষাবাদ, পশুপালন এবং ব্যবসা—সবই তিনি সমান দক্ষতায় সামলাচ্ছেন। শাহীন সজীব বলেন, "সফলতার পথে অনেক বাধা এসেছে, কিন্তু আমি হার মানিনি। দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছি বলেই আজ আমার পরিবার নিয়ে সুখে আছি।"
অল্প বয়সেই শাহীন সজীবের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প আজ স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।