দিনব্যাপী নানা আয়োজন ও কৈশোরের স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের(১৯৫৮-২০২৫)পুনর্মিলনী উৎসব।আলোকশিখা ছড়িয়ে যাওয়া এই বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় ছিল আলোচনা সভা,স্মৃতিচারণ,আপ্যায়ন,স্মরণিকা প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণ।
শনিবার (১০ জানুয়ারী ) স্কুল প্রাঙ্গণে এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়।পুনর্মিলনীর উৎসবে বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দিতে এদিন সকাল ৮টা থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হন দুর-দুরান্তের সাবেক শিক্ষার্থীরা।ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে কৈশোরের পরিচিত মুখগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি শুরু হয় সকাল ৯ টায়। বন্ধুদের হাতে হাত রেখে শুরু হওয়া র্যালিটি পৌর সদরের বিভিন্ন অলিগলি প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসে স্কুল প্রাঙ্গণে। ব্যস্ত কর্মজীবনের ক্লান্তি ভুলে কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে নতুন করে কাটানো সময় ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে সবাই ছিলেন ব্যস্ত। স্কুল জীবনের গণ্ডি পার হওয়ার দীর্ঘ সময় পর হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্বের কাছে পেয়ে সবাই আনন্দিত। এক একটা পরিচ্ছেদকে আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় ও স্মৃতিচারণে কাটে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন চবির সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড.আবুল মনসুর চৌধুরী।
স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের উপস্থিতিতে যে বন্ধুরা আজ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে এই পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরিষদের আহবায়ক মনজুর আলম মাস্টারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রাম বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আবুল কাশেম,বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার সালমা ইসলাম,সংবর্ধিত সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আবুল মোহছেন,আনোয়ার হোসেন,
বক্তব্য রাখেন সাবেক শিক্ষার্থী ড. সবুজ বড়ুয়া,
যুগ্ম জেলা দায়রা জজ জান্নাতুল আদন শিরিন,ডাঃ রেজওয়ানা আহমদ সিদ্দিকা,এ সময় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাস বিহারী আচার্য, বাবুল কান্তি দে, দীপ্তি বিশ্বাংগ্রী, চঞ্চল চৌধুরী, ভুপাল কান্ডি দে,দীলিপ দত্ত ও বোয়ালখালী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এম এ মন্নান সহ অনান্য শিক্ষকরা।দুপুর ২ টায় পরিষদের সি. যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোছাইন চৌধুরীট সভাপতিত্বে শুরু হয় প্রাক্তনদের নিয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব । এতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয় আয়োজকদের। একই সঙ্গে যারা এবার নানা কারণে উপস্থিত থাকতে পারেনি তাদের সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী পুনর্মিলনী উৎসব আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।দিনের শেষভাগে ফারুক ইসলাম মানিক ও আফাজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ ।