আসন্ন আগামী ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-৩ তথা জলঢাকা আসনের নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্ভাব্যপ্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের দ্বারগোড়ায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে মানুষের হৃদয়ের স্থান নিয়েছেন জলঢাকা উপজেলা পরিষদের টানা দুই বারের চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক আলহাজ্ব সৈয়দ আলী। ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কয়েকধাপে বিএনপির প্রায় ২৫০টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে প্রথমধাপে নীলফামারীর ৪টি আসনের মধ্যে ২টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেও নীলফামারী-১ ও ৩ সংসদীয় আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি, পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব। দুই আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হওয়ার ফলে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা। পরবর্তী পর্যায়ে নীলফামারী-১ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগিনা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার ইসলাম তুহিনকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করায় ডোমার ও ডিমলা উপজেলা বিএনপি নেতা কর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের স্বস্তি ফিরলেও, হতাশায় প্রহর গুনছে নীলফামারী-৩ আসন জলঢাকা উপজেলা বিএনপি নেতা কর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা। বর্তমানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জানা যায়, নীলফামারী-৩ আসনটি জামাতের ঘাঁটি। এখানে বিএনপির অন্য-কোন নেতা বা জোটের কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হলে অনায়াসে জামাত নির্বাচিত হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে উপজেলার স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমলে যারা হামলা-মামলার শিকার হয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছেন এবং যাকে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা চায়, তাঁকে ছাড়া বাইরের কাউকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূল নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশার সৃষ্টি হবে এবং নীলফামারী ৩ আসনটি বিএনপি'র হাত ছাড়া হবে, এখানে অনায়াসে জামাত নির্বাচিত হবে বলে জানিয়েছেন অনেকে। এখানে আবার কেউ কেউ মনে করেন, এর পিছনে কাজ করছে দলের প্রভাব বিস্তার ও গ্রুপ ভিত্তিক তদবিরের রাজনীতি। ইতিমধ্যে দলীয় নির্দেশনায় দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন সৈয়দ আলী। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারনায় ব্যস্ত সমর পার করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি তারেক রহমানের সম্মিলিত ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন। সাধারণ মানুষদের মতে জানা যায়, তিনি একজন সৎ ও যোগ্য দানশীল ব্যক্তি, উপজেলার এমন কোন জায়গা নেই তাঁর ব্যক্তিগত অনুদানের ছায়া পড়েনি।
জলঢালা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি এমদাদুল হক সাজু বলেন, আলহাজ্ব সৈয়দ আলী এমন একজন ব্যক্তি যাঁকে দলবল নির্বিশেষে দুই বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। তিনি ছাড়া বিএনপির অন্য কোন নেতা বা জোটের কোনো নেতাকে মনোনয়ন দিলে অনায়াসে জামাত নির্বাচিত হবে।
খুটামারা ইউনিয়ন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, সৈয়দ আলী মতো ভালো নেতাকে মনোনয়ন না দিলে বিএনপি বড় ভুল করবে। ধর্মপালের মাঝাপাড়া এলাকার নেজার উদ্দিন, তরিকুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অনেকে জানান আমাদের ইউনিয়নে সৈয়দ আলী সাহেবের অনেক অবদান আছে, তিনি মনোনয়ন পেলে দল বল নির্বিশেষে তাকেই নির্বাচিত করবে। নাম না বলা শর্তে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, সৈয়দ আলীর বিকল্প নেই, তিনি একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী, তাঁকে মনোনয়ন দিলে ব্যক্তি হিসেবে সকল রাজনৈতিক দলের ভোটারদের সমর্থন পাবে। জলঢাকা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব
মেনহাজুল ইসলাম রানা, জলঢাকা পৌরসভার রাজারহাট বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম, "ছ" মিল ব্যবসায়ী এমদাদুল হক, পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলামসহ অনেকের মুখে একই কথা জামাতের প্রার্থীকে হারাতে গেলে সৈয়দ আলী সাহেবের বিকল্প নেই।
আবেগঘন কন্ঠে আলহাজ্ব সৈয়দ আলী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমার কিছু বলার নেই।