সাভারে বিএনপি নেতাদের পরিচয় ব্যবহার করে ফুটপাতে এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে একদল অসাধু ব্যক্তি। পুলিশের অভিযানে মাঝে মধ্যে চাঁদাবাজরা ধরা পড়লেও থামছে না তাদের এই অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রবণতা।
সরেজমিন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী মাদ্রাসা মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে আশেপাশের সড়কে ভ্যান নিয়ে সবজি, আলু-পেঁয়াজ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে এলে প্রতিদিনই চাঁদা গুনতে হচ্ছে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্বাধীন নামের এক এডভোকেটের প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেখানে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৩০টি মাছের দোকান, ২৫টির মতো সবজি দোকানসহ আরও কয়েকটি দোকান বসে। আর এ সুযোগে চাঁদাবাজরা প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন,
“সড়কে বা ওই ওকিল সাহেবের জায়গায় দোকান বসালেই খলিল এবং শাহজাহান নামের দুই ব্যক্তিকে চাঁদা দিতে হয়।”
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০টি মাছের দোকান থেকে ৫০ টাকা করে, ২৫টি সবজির দোকান থেকে ৩০ টাকা করে এবং অন্যান্য দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা হারে টাকা তোলা হচ্ছে। মাসে এভাবে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই এই চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,
“আমাদের এলাকার গরিব মানুষ ভ্যানে করে কিছু বিক্রি করতে এলেও ওদের চাঁদা দিতে হয়।”
চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে খলিল ও শাহজাহান কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ( ডিবি) ওসি জালাল উদ্দীন বলেন, খুব দ্রুতই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।